ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ডেংগুতে প্লাটিলেট কমে যায় কেন?কমে গেলে কি করবেন?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪ ১৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্লাটিলেট কমে যাওয়ার কারণ

স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ পর্যন্ত থাকে। সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে এই মাত্রা নির্ণয় করা হয়। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে প্লাটিলেট কমে যাওয়ার তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  1. অস্থিমজ্জার ওপর প্রভাব: ডেঙ্গু ভাইরাস সরাসরি অস্থিমজ্জায় আক্রমণ করে, যা প্লাটিলেট উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে।
  2. রক্তে প্লাটিলেট ধ্বংস: ডেঙ্গু সংক্রমণের ফলে রক্তে প্লাটিলেট ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
  3. ইমিউন প্রতিক্রিয়া: শরীরের ইমিউন সিস্টেম ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় প্লাটিলেটকে ধ্বংস করতে পারে।

ডেঙ্গু ছাড়াও যেকোনো ভাইরাস জ্বরে প্লাটিলেট কমতে পারে। তবে ডেঙ্গু জ্বরে এটি হঠাৎ করে কমে যেতে পারে, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। যদিও প্লাটিলেট কমে যাওয়া ডেঙ্গুর মূল জটিলতা নয়, তবে এটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গু জ্বরে প্লাটিলেট কমলে করণীয়

জ্বরের চতুর্থ, পঞ্চম বা ষষ্ঠ দিনে রোগীর রক্তের হিমাটোক্রিট বেড়ে গেছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হয়। এটি রক্তের ঘনত্বের একটি নির্দেশক। রোগী যদি দৈনিক আড়াই লিটার পানি পান করতে না পারে বা যদি বমি ও ডায়রিয়া হয় এবং প্লাজমা লিকেজ বা যেকোনো কারণে পানিশূন্যতা হয়, তাহলে হিমাটোক্রিট বেড়ে যায়। এর সঙ্গে রক্তে শ্বেতকণিকা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে, তার ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্লাটিলেটের সংখ্যাও কমে যেতে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তৃতীয় থেকে সপ্তম দিনের মধ্যে প্লাটিলেট কমে, আবার কোনো চিকিৎসা ছাড়াই অষ্টম বা নবম দিনের মধ্যে প্লাটিলেট বেড়ে স্বাভাবিক হয়ে যায়।

প্লাটিলেট কমে যাওয়ার লক্ষণ

  • শরীরের কোনো স্থানে নীলচে বা ছোট ছোট লাল ছোপ দেখা দেয়।
  • প্লাটিলেট ৫০ হাজারের নিচে নেমে গেলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
  • ২০ হাজারের নিচে নামলে কোনো আঘাত ছাড়াই রক্তপাত হতে পারে।
  • প্লাটিলেট ১০ হাজারের নিচে নামলে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত পেটের ভেতর বা মস্তিষ্কে হতে পারে। এ সময় স্যালাইন দেওয়ার পরও রক্তচাপ কমে গেলে ও হিমাটোক্রিট কমে গেলে রক্ত সঞ্চালনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • আরও পড়ুন

সতর্কতা ও চিকিৎসা

প্লাটিলেট কমে যাওয়া শুধুমাত্র ডেঙ্গু নয়, রক্তের ক্লটিং ফ্যাক্টরের অভাবেও রক্তপাত হতে পারে। সেপসিস বা পচনশীল ক্ষত মারাত্মক আকার ধারণ করলে শরীরে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তখন রক্তে ডি-ডাইমার নামক উপাদান বেড়ে যায়, কমে যায় প্লাটিলেট। রক্তের কালচার পাঠিয়ে তৎক্ষণাৎ অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন শুরু করা উচিত।

প্লাটিলেট কমে যাওয়ার অন্যান্য কারণ

  • আইটিপি (ইডিওপ্যাথিক থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপুরা): এ ক্ষেত্রে প্লীহা বড় থাকে।
  • পোস্ট কোভিড সিনড্রোম বা কোভিড টিকা: প্লাটিলেট কম হতে পারে।
  • লিভারের অসুখ, সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথ্রোমেটোসাস, একিউট লিউকেমিয়া বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: এসব ক্ষেত্রেও প্লাটিলেট কমতে পারে।

পরামর্শ ও করণীয়

ডেঙ্গু বা এই মৌসুমে জ্বর হলে আগে থেকেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ডেঙ্গু রোগীর পানিশূন্যতা, বমি, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, প্লাটিলেট দ্রুত কমলে বা ৫০ হাজারের নিচে নেমে গেলে; বমি, মলের সঙ্গে রক্তপাত বা মাসিকে অতিরিক্ত রক্তপাত দেখা দিলে; প্রস্রাব সারা দিনে ৬ বারের কম হলে; বাড়িতে চিকিৎসা সম্ভব না হলে বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। প্লাটিলেট নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

4o

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডেংগুতে প্লাটিলেট কমে যায় কেন?কমে গেলে কি করবেন?

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪

প্লাটিলেট কমে যাওয়ার কারণ

স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ পর্যন্ত থাকে। সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে এই মাত্রা নির্ণয় করা হয়। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে প্লাটিলেট কমে যাওয়ার তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  1. অস্থিমজ্জার ওপর প্রভাব: ডেঙ্গু ভাইরাস সরাসরি অস্থিমজ্জায় আক্রমণ করে, যা প্লাটিলেট উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে।
  2. রক্তে প্লাটিলেট ধ্বংস: ডেঙ্গু সংক্রমণের ফলে রক্তে প্লাটিলেট ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
  3. ইমিউন প্রতিক্রিয়া: শরীরের ইমিউন সিস্টেম ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় প্লাটিলেটকে ধ্বংস করতে পারে।

ডেঙ্গু ছাড়াও যেকোনো ভাইরাস জ্বরে প্লাটিলেট কমতে পারে। তবে ডেঙ্গু জ্বরে এটি হঠাৎ করে কমে যেতে পারে, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। যদিও প্লাটিলেট কমে যাওয়া ডেঙ্গুর মূল জটিলতা নয়, তবে এটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গু জ্বরে প্লাটিলেট কমলে করণীয়

জ্বরের চতুর্থ, পঞ্চম বা ষষ্ঠ দিনে রোগীর রক্তের হিমাটোক্রিট বেড়ে গেছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হয়। এটি রক্তের ঘনত্বের একটি নির্দেশক। রোগী যদি দৈনিক আড়াই লিটার পানি পান করতে না পারে বা যদি বমি ও ডায়রিয়া হয় এবং প্লাজমা লিকেজ বা যেকোনো কারণে পানিশূন্যতা হয়, তাহলে হিমাটোক্রিট বেড়ে যায়। এর সঙ্গে রক্তে শ্বেতকণিকা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে, তার ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্লাটিলেটের সংখ্যাও কমে যেতে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তৃতীয় থেকে সপ্তম দিনের মধ্যে প্লাটিলেট কমে, আবার কোনো চিকিৎসা ছাড়াই অষ্টম বা নবম দিনের মধ্যে প্লাটিলেট বেড়ে স্বাভাবিক হয়ে যায়।

প্লাটিলেট কমে যাওয়ার লক্ষণ

  • শরীরের কোনো স্থানে নীলচে বা ছোট ছোট লাল ছোপ দেখা দেয়।
  • প্লাটিলেট ৫০ হাজারের নিচে নেমে গেলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
  • ২০ হাজারের নিচে নামলে কোনো আঘাত ছাড়াই রক্তপাত হতে পারে।
  • প্লাটিলেট ১০ হাজারের নিচে নামলে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত পেটের ভেতর বা মস্তিষ্কে হতে পারে। এ সময় স্যালাইন দেওয়ার পরও রক্তচাপ কমে গেলে ও হিমাটোক্রিট কমে গেলে রক্ত সঞ্চালনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • আরও পড়ুন

সতর্কতা ও চিকিৎসা

প্লাটিলেট কমে যাওয়া শুধুমাত্র ডেঙ্গু নয়, রক্তের ক্লটিং ফ্যাক্টরের অভাবেও রক্তপাত হতে পারে। সেপসিস বা পচনশীল ক্ষত মারাত্মক আকার ধারণ করলে শরীরে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তখন রক্তে ডি-ডাইমার নামক উপাদান বেড়ে যায়, কমে যায় প্লাটিলেট। রক্তের কালচার পাঠিয়ে তৎক্ষণাৎ অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন শুরু করা উচিত।

প্লাটিলেট কমে যাওয়ার অন্যান্য কারণ

  • আইটিপি (ইডিওপ্যাথিক থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপুরা): এ ক্ষেত্রে প্লীহা বড় থাকে।
  • পোস্ট কোভিড সিনড্রোম বা কোভিড টিকা: প্লাটিলেট কম হতে পারে।
  • লিভারের অসুখ, সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথ্রোমেটোসাস, একিউট লিউকেমিয়া বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: এসব ক্ষেত্রেও প্লাটিলেট কমতে পারে।

পরামর্শ ও করণীয়

ডেঙ্গু বা এই মৌসুমে জ্বর হলে আগে থেকেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ডেঙ্গু রোগীর পানিশূন্যতা, বমি, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, প্লাটিলেট দ্রুত কমলে বা ৫০ হাজারের নিচে নেমে গেলে; বমি, মলের সঙ্গে রক্তপাত বা মাসিকে অতিরিক্ত রক্তপাত দেখা দিলে; প্রস্রাব সারা দিনে ৬ বারের কম হলে; বাড়িতে চিকিৎসা সম্ভব না হলে বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। প্লাটিলেট নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

4o