ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফ্যাটি লিভার ? বিপদজনক রোগ থেকে বাঁচুন।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্তমানে লিভারের সবচেয়ে পরিচিত রোগের নাম ফ্যাটি লিভার, যা নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ নামেও পরিচিত। পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা সাধারণত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। যকৃতের ৫ শতাংশের বেশি কোষে চর্বি জমা হলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। চর্বির আধিক্য লিভারের কোষগুলোকে বেলুনের মতো ফুলিয়ে দেয় এবং একপর্যায়ে কোষগুলো ফেটে গিয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে, যার ফলে লিভার তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়।

কীভাবে বুঝবেন লিভার ফ্যাটি?

সাধারণত ফ্যাটি লিভারে সরাসরি কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ফ্যাটি লিভারজনিত জটিলতা যেমন লিভার সিরোসিস হলে জন্ডিস, পেট ফোলা, পা ফোলা, রক্তবমি, ঘন কালো পায়খানা, চুলকানি, অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা, অস্বাভাবিক আচরণ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।

সাধারণত পেটের আলট্রাসাউন্ড অথবা কিছু নির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষা করলে ফ্যাটি লিভার শনাক্ত করা সম্ভব। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লিভারের টিস্যু পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিতে রয়েছেন কারা?

  1. ডায়াবেটিস
  2. উচ্চ রক্তচাপ
  3. রক্তে কোলেস্টেরল বা চর্বির আধিক্য
  4. অতিরিক্ত ওজন
  5. থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা
  6. নিদ্রাজনিত সমস্যা বা স্লিপ এপনিয়া
  7. পরিবারের অন্য কারও ফ্যাটি লিভার বা অতিরিক্ত ওজন থাকলে
  8. ধূমপায়ী
  9. বয়স ৫০-এর বেশি হলে

উপরের যেকোনো একটি ঝুঁকি থাকলে, তাঁদের ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় বেশি।

ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচার উপায়

  1. সুষম খাদ্যতালিকা মেনে চলা ও সে অনুযায়ী খাবার খাওয়া।
  2. প্রতিদিনের খাবারে ফলমূল, শাকসবজি রাখা।
  3. অতিরিক্ত চর্বি, ভাজাপোড়া, ফাস্ট ফুড পরিহার করা।
  4. কোমল পানীয়, চিনিযুক্ত শরবত, জুস, চা পরিহার করা।
  5. অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা।
  6. ধূমপান একদম নিষেধ।
  7. সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট শরীরচর্চা করা।
  8. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকলে কমপক্ষে ১০ শতাংশ ওজন কমানো।
  9. আদর্শ ওজন ও উচ্চতার অনুপাত তথা বিএমআই (১৮.৫ -২৪.৯) অনুসরণ করা।
  10. মিষ্টিজাতীয় খাদ্য এড়িয়ে চলা।

ডা. মুসআব খলিল, লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফ্যাটি লিভার ? বিপদজনক রোগ থেকে বাঁচুন।

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

বর্তমানে লিভারের সবচেয়ে পরিচিত রোগের নাম ফ্যাটি লিভার, যা নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ নামেও পরিচিত। পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা সাধারণত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। যকৃতের ৫ শতাংশের বেশি কোষে চর্বি জমা হলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। চর্বির আধিক্য লিভারের কোষগুলোকে বেলুনের মতো ফুলিয়ে দেয় এবং একপর্যায়ে কোষগুলো ফেটে গিয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে, যার ফলে লিভার তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়।

কীভাবে বুঝবেন লিভার ফ্যাটি?

সাধারণত ফ্যাটি লিভারে সরাসরি কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ফ্যাটি লিভারজনিত জটিলতা যেমন লিভার সিরোসিস হলে জন্ডিস, পেট ফোলা, পা ফোলা, রক্তবমি, ঘন কালো পায়খানা, চুলকানি, অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা, অস্বাভাবিক আচরণ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।

সাধারণত পেটের আলট্রাসাউন্ড অথবা কিছু নির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষা করলে ফ্যাটি লিভার শনাক্ত করা সম্ভব। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লিভারের টিস্যু পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিতে রয়েছেন কারা?

  1. ডায়াবেটিস
  2. উচ্চ রক্তচাপ
  3. রক্তে কোলেস্টেরল বা চর্বির আধিক্য
  4. অতিরিক্ত ওজন
  5. থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা
  6. নিদ্রাজনিত সমস্যা বা স্লিপ এপনিয়া
  7. পরিবারের অন্য কারও ফ্যাটি লিভার বা অতিরিক্ত ওজন থাকলে
  8. ধূমপায়ী
  9. বয়স ৫০-এর বেশি হলে

উপরের যেকোনো একটি ঝুঁকি থাকলে, তাঁদের ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় বেশি।

ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচার উপায়

  1. সুষম খাদ্যতালিকা মেনে চলা ও সে অনুযায়ী খাবার খাওয়া।
  2. প্রতিদিনের খাবারে ফলমূল, শাকসবজি রাখা।
  3. অতিরিক্ত চর্বি, ভাজাপোড়া, ফাস্ট ফুড পরিহার করা।
  4. কোমল পানীয়, চিনিযুক্ত শরবত, জুস, চা পরিহার করা।
  5. অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা।
  6. ধূমপান একদম নিষেধ।
  7. সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট শরীরচর্চা করা।
  8. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকলে কমপক্ষে ১০ শতাংশ ওজন কমানো।
  9. আদর্শ ওজন ও উচ্চতার অনুপাত তথা বিএমআই (১৮.৫ -২৪.৯) অনুসরণ করা।
  10. মিষ্টিজাতীয় খাদ্য এড়িয়ে চলা।

ডা. মুসআব খলিল, লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন