ঢাকা ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধুর খুনির ছয় সন্তান বাবার নাম পরিবর্তন করে এনআইডি করেছেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৮:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪ ২৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের ছয় সন্তান তাদের বাবার নাম পরিবর্তন করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করেছেন। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এ তথ্য জানিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এনআইডি নিবন্ধনের কাজ করে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি উইং)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এনআইডি উইং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

ইসি সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিটি গত সোমবার ইসিতে পৌঁছায়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও ১৯৭৫ সালের জেল হত্যা মামলার আসামি রিসালদার মোসলেম উদ্দিন তার নাম পরিবর্তন করে মো. রফিকুল ইসলাম খান নামে পরিচিত হয়েছেন।

ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) জানিয়েছে, মোসলেম উদ্দিন পলাতক রয়েছেন। তাঁর ছয় সন্তান তাদের এনআইডিতে বাবার নাম রিসালদার মোসলেম উদ্দিন পরিবর্তন করে মো. রফিকুল ইসলাম খান উল্লেখ করেছেন। এই এনআইডি ব্যবহার করে তিনজন তাদের পাসপোর্টে এবং একজন ড্রাইভিং লাইসেন্সে বাবার পরিবর্তিত নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আরেক খুনি আজিজ পাশা ২০০১ সালের জুনে জিম্বাবুয়েতে মারা যান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া চিঠিতে মোসলেম উদ্দিনের ছয় সন্তানের নাম ও এনআইডি নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান, মাহমুদুল ইসলাম খান, মজিদুল ইসলাম খান, মো. মহিদুল ইসলাম খান, মো. সাজিদুল ইসলাম খান এবং সানাজ খান। এর মধ্যে শফিকুল, মহিদুল ও সানাজ তাদের পাসপোর্টে বাবার নাম পরিবর্তন করেছেন। আর মাহমুদুল ইসলাম তার ড্রাইভিং লাইসেন্সে বাবার নাম পরিবর্তন করেছেন।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহবুব আলম তালুকদার জানান, তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা জ্ঞাতসারে মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য দিয়ে এনআইডি পাওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এর শাস্তি এক বছর কারাদণ্ড বা ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এনআইডি জাল করলে বা জাল এনআইডি বহন করলে সাত বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। জালিয়াতির কাজে সহায়তা করলে একই সাজা প্রযোজ্য।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার সময় বিদেশে থাকায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান। খুনিদের দায়মুক্তি দিতে আইন করা হলেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার শুরু করে।

১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকার তৎকালীন দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল এই মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। পরে উচ্চ আদালত ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

আরও পড়ুন

২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি পাঁচ খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পলাতক খুনিদের মধ্যে আবদুল মাজেদকে ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পলাতক অন্য খুনিদের মধ্যে এম বি নূর চৌধুরী কানাডায়, রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেম উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বঙ্গবন্ধুর খুনির ছয় সন্তান বাবার নাম পরিবর্তন করে এনআইডি করেছেন

আপডেট সময় : ০৪:০৮:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের ছয় সন্তান তাদের বাবার নাম পরিবর্তন করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করেছেন। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এ তথ্য জানিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এনআইডি নিবন্ধনের কাজ করে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি উইং)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এনআইডি উইং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

ইসি সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিটি গত সোমবার ইসিতে পৌঁছায়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও ১৯৭৫ সালের জেল হত্যা মামলার আসামি রিসালদার মোসলেম উদ্দিন তার নাম পরিবর্তন করে মো. রফিকুল ইসলাম খান নামে পরিচিত হয়েছেন।

ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) জানিয়েছে, মোসলেম উদ্দিন পলাতক রয়েছেন। তাঁর ছয় সন্তান তাদের এনআইডিতে বাবার নাম রিসালদার মোসলেম উদ্দিন পরিবর্তন করে মো. রফিকুল ইসলাম খান উল্লেখ করেছেন। এই এনআইডি ব্যবহার করে তিনজন তাদের পাসপোর্টে এবং একজন ড্রাইভিং লাইসেন্সে বাবার পরিবর্তিত নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আরেক খুনি আজিজ পাশা ২০০১ সালের জুনে জিম্বাবুয়েতে মারা যান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া চিঠিতে মোসলেম উদ্দিনের ছয় সন্তানের নাম ও এনআইডি নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান, মাহমুদুল ইসলাম খান, মজিদুল ইসলাম খান, মো. মহিদুল ইসলাম খান, মো. সাজিদুল ইসলাম খান এবং সানাজ খান। এর মধ্যে শফিকুল, মহিদুল ও সানাজ তাদের পাসপোর্টে বাবার নাম পরিবর্তন করেছেন। আর মাহমুদুল ইসলাম তার ড্রাইভিং লাইসেন্সে বাবার নাম পরিবর্তন করেছেন।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহবুব আলম তালুকদার জানান, তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা জ্ঞাতসারে মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য দিয়ে এনআইডি পাওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এর শাস্তি এক বছর কারাদণ্ড বা ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এনআইডি জাল করলে বা জাল এনআইডি বহন করলে সাত বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। জালিয়াতির কাজে সহায়তা করলে একই সাজা প্রযোজ্য।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার সময় বিদেশে থাকায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান। খুনিদের দায়মুক্তি দিতে আইন করা হলেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার শুরু করে।

১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকার তৎকালীন দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল এই মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। পরে উচ্চ আদালত ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

আরও পড়ুন

২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি পাঁচ খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পলাতক খুনিদের মধ্যে আবদুল মাজেদকে ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পলাতক অন্য খুনিদের মধ্যে এম বি নূর চৌধুরী কানাডায়, রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেম উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন