ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সুস্থ দাঁত সুন্দর হাসি। দাঁতের যত্নে করণীয়…

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪ ২৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া শুধু সৌন্দর্য রক্ষার জন্যই নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাঁতের সমস্যাগুলি প্রায়ই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই দাঁতের যত্নে কিছু করণীয় বিষয় জানা এবং তা মেনে চলা খুবই জরুরি।

দাঁতের যত্নে করণীয়:

১. নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা:

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা দাঁতের যত্নের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সঠিক পদ্ধতিতে এবং সঠিক সময়ে দাঁত ব্রাশ করা হলে দাঁতের ক্যাভিটি, মাড়ির রোগ এবং অন্যান্য দাঁতের সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। দিনে দুইবার, সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে কমপক্ষে দুই মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করা উচিত।

২. সঠিক ব্রাশ এবং টুথপেস্ট ব্যবহার করা:

সঠিক ধরনের টুথব্রাশ এবং টুথপেস্ট ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোট মাথার এবং নরম ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার করলে দাঁতের প্রতিটি কোণ ভালভাবে পরিষ্কার করা যায়। ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করলে ক্যাভিটি প্রতিরোধ করা যায়।

৩. ফ্লসিং করা:

ব্রাশ করার পাশাপাশি ফ্লসিং করাও জরুরি। দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের অংশ এবং প্লাক ব্রাশ দিয়ে সবসময় পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। প্রতিদিন কমপক্ষে একবার ফ্লস ব্যবহার করলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবার এবং প্লাক পরিষ্কার হয় এবং মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

৪. মাউথওয়াশ ব্যবহার করা:

মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে মুখের ব্যাকটেরিয়া কমানো যায় এবং শ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করা যায়। এছাড়া, মাউথওয়াশ মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং মুখের ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

৫. সুষম খাদ্য গ্রহণ করা:

আরও জানুন

দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিনি এবং অ্যাসিডিক খাবার কম খেলে ক্যাভিটি এবং দাঁতের অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকি কমে যায়। শাকসবজি, ফলমূল, দুধ, চিজ ইত্যাদি দাঁতের জন্য ভালো খাবার।

৬. পর্যাপ্ত পানি পান করা:

পানি দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পানি মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর করে এবং মুখের আর্দ্রতা বজায় রাখে, যা দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়ক।

৭. ধূমপান এবং অ্যালকোহল পরিহার করা:

ধূমপান এবং অ্যালকোহল দাঁতের এবং মাড়ির জন্য ক্ষতিকর। ধূমপান দাঁতের রং নষ্ট করে এবং মাড়ির রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অ্যালকোহল মুখের শুষ্কতা সৃষ্টি করে, যা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।

৮. নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া:

নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া দাঁতের যত্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কমপক্ষে ছয় মাস পর পর দাঁতের ডাক্তার দেখানো উচিত। ডেন্টিস্ট দাঁতের যেকোনো সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে পারেন।

দাঁতের যত্নে খাদ্য তালিকা

দাঁতের কিছু সাধারণ সমস্যা এবং প্রতিকার:

১. ক্যাভিটি:

ক্যাভিটি হলো দাঁতের মধ্যে ছোট গর্ত, যা সাধারণত ব্যাকটেরিয়া এবং ফ্লাকের কারণে হয়। সঠিকভাবে ব্রাশ করা, ফ্লসিং করা, এবং ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করলে ক্যাভিটি প্রতিরোধ করা যায়।

২. মাড়ির রোগ:

মাড়ির রোগ দাঁতের মাড়ির প্রদাহ এবং সংক্রমণ। মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করতে নিয়মিত ব্রাশ এবং ফ্লসিং করা, মাউথওয়াশ ব্যবহার করা, এবং ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া জরুরি।

৩. দাঁতের পাথর:

দাঁতের পাথর হলো দাঁতের উপর জমে থাকা কঠিন পাথরজাতীয় পদার্থ, যা সাধারণত ফ্লাক থেকে সৃষ্টি হয়। নিয়মিত ব্রাশ এবং ফ্লসিং করলে দাঁতের পাথর জমা প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়া, ডেন্টিস্টের মাধ্যমে দাঁতের পাথর পরিষ্কার করানো উচিত।

৪. দাঁতের ক্ষয়:

দাঁতের ক্ষয় সাধারনত অ্যাসিডিক খাবার এবং পানীয়ের কারণে হয়। চিনি এবং অ্যাসিডিক খাবার কম খাওয়া, এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধ করতে সাহ

দাঁতের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ দাঁতের স্বাস্থ্য সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা, ফ্লসিং করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ করা, এবং ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া দাঁতের সঠিক যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিকভাবে দাঁতের যত্ন নিলে দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং সুন্দর হাসি বজায় রাখা সম্ভব হয়।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সুস্থ দাঁত সুন্দর হাসি। দাঁতের যত্নে করণীয়…

আপডেট সময় : ০৭:২৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া শুধু সৌন্দর্য রক্ষার জন্যই নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাঁতের সমস্যাগুলি প্রায়ই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই দাঁতের যত্নে কিছু করণীয় বিষয় জানা এবং তা মেনে চলা খুবই জরুরি।

দাঁতের যত্নে করণীয়:

১. নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা:

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা দাঁতের যত্নের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সঠিক পদ্ধতিতে এবং সঠিক সময়ে দাঁত ব্রাশ করা হলে দাঁতের ক্যাভিটি, মাড়ির রোগ এবং অন্যান্য দাঁতের সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। দিনে দুইবার, সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে কমপক্ষে দুই মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করা উচিত।

২. সঠিক ব্রাশ এবং টুথপেস্ট ব্যবহার করা:

সঠিক ধরনের টুথব্রাশ এবং টুথপেস্ট ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোট মাথার এবং নরম ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার করলে দাঁতের প্রতিটি কোণ ভালভাবে পরিষ্কার করা যায়। ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করলে ক্যাভিটি প্রতিরোধ করা যায়।

৩. ফ্লসিং করা:

ব্রাশ করার পাশাপাশি ফ্লসিং করাও জরুরি। দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের অংশ এবং প্লাক ব্রাশ দিয়ে সবসময় পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। প্রতিদিন কমপক্ষে একবার ফ্লস ব্যবহার করলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবার এবং প্লাক পরিষ্কার হয় এবং মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

৪. মাউথওয়াশ ব্যবহার করা:

মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে মুখের ব্যাকটেরিয়া কমানো যায় এবং শ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করা যায়। এছাড়া, মাউথওয়াশ মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং মুখের ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

৫. সুষম খাদ্য গ্রহণ করা:

আরও জানুন

দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিনি এবং অ্যাসিডিক খাবার কম খেলে ক্যাভিটি এবং দাঁতের অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকি কমে যায়। শাকসবজি, ফলমূল, দুধ, চিজ ইত্যাদি দাঁতের জন্য ভালো খাবার।

৬. পর্যাপ্ত পানি পান করা:

পানি দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পানি মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর করে এবং মুখের আর্দ্রতা বজায় রাখে, যা দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়ক।

৭. ধূমপান এবং অ্যালকোহল পরিহার করা:

ধূমপান এবং অ্যালকোহল দাঁতের এবং মাড়ির জন্য ক্ষতিকর। ধূমপান দাঁতের রং নষ্ট করে এবং মাড়ির রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অ্যালকোহল মুখের শুষ্কতা সৃষ্টি করে, যা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।

৮. নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া:

নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া দাঁতের যত্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কমপক্ষে ছয় মাস পর পর দাঁতের ডাক্তার দেখানো উচিত। ডেন্টিস্ট দাঁতের যেকোনো সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে পারেন।

দাঁতের যত্নে খাদ্য তালিকা

দাঁতের কিছু সাধারণ সমস্যা এবং প্রতিকার:

১. ক্যাভিটি:

ক্যাভিটি হলো দাঁতের মধ্যে ছোট গর্ত, যা সাধারণত ব্যাকটেরিয়া এবং ফ্লাকের কারণে হয়। সঠিকভাবে ব্রাশ করা, ফ্লসিং করা, এবং ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করলে ক্যাভিটি প্রতিরোধ করা যায়।

২. মাড়ির রোগ:

মাড়ির রোগ দাঁতের মাড়ির প্রদাহ এবং সংক্রমণ। মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করতে নিয়মিত ব্রাশ এবং ফ্লসিং করা, মাউথওয়াশ ব্যবহার করা, এবং ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া জরুরি।

৩. দাঁতের পাথর:

দাঁতের পাথর হলো দাঁতের উপর জমে থাকা কঠিন পাথরজাতীয় পদার্থ, যা সাধারণত ফ্লাক থেকে সৃষ্টি হয়। নিয়মিত ব্রাশ এবং ফ্লসিং করলে দাঁতের পাথর জমা প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়া, ডেন্টিস্টের মাধ্যমে দাঁতের পাথর পরিষ্কার করানো উচিত।

৪. দাঁতের ক্ষয়:

দাঁতের ক্ষয় সাধারনত অ্যাসিডিক খাবার এবং পানীয়ের কারণে হয়। চিনি এবং অ্যাসিডিক খাবার কম খাওয়া, এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধ করতে সাহ

দাঁতের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ দাঁতের স্বাস্থ্য সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা, ফ্লসিং করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ করা, এবং ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া দাঁতের সঠিক যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিকভাবে দাঁতের যত্ন নিলে দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং সুন্দর হাসি বজায় রাখা সম্ভব হয়।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন