ঢাকা ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক চিকিৎসা নিন এবং করণীয় কি কি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং করণীয়

হার্ট অ্যাটাকের পরিচিতি

হার্ট অ্যাটাক, যা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন নামেও পরিচিত, একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা যেখানে হৃদযন্ত্রে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এটি সাধারণত হৃদযন্ত্রের ধমনীতে জমে থাকা প্লাক ফেটে যাওয়ার কারণে ঘটে। ফলস্বরূপ, হৃদযন্ত্রের একটি অংশে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা হৃদযন্ত্রের কোষগুলির ক্ষতি করতে পারে। দ্রুত এবং সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করলে হার্ট অ্যাটাক থেকে জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ:

হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:

  1. বুকে ব্যথা বা চাপ: বুকে মাঝখানে বা বাম দিকে তীব্র ব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে।
  2. শ্বাসকষ্ট: স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে।
  3. ঘাম ঝরা: প্রচণ্ড ঘাম ঝরতে পারে।
  4. মাথা ঘোরা: মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি।
  5. বমি বমি ভাব: বমি বা বমি বমি ভাব হওয়া।
  6. অস্বাভাবিক নাড়ি: নাড়ি দ্রুত বা ধীরে হওয়া।

প্রাথমিক পদক্ষেপ:

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে বা সন্দেহ হলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। নিম্নলিখিত প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো নিন:

  1. শান্ত থাকুন: আক্রান্ত ব্যক্তি ও আশেপাশের সবাইকে শান্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। উদ্বেগ বাড়িয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।
  2. দ্রুত মেডিকেল সাহায্য নিন: দ্রুত ৯৯৯ বা স্থানীয় জরুরি নম্বরে কল করুন এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন। যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে পৌঁছানো প্রয়োজন।
  3. বসে পড়ুন: আক্রান্ত ব্যক্তিকে বসিয়ে দিন এবং বিশ্রাম নিতে বলুন। শুয়ে পড়লে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
  4. এসপিরিন দিন: যদি আক্রান্ত ব্যক্তি এসপিরিন সহ্য করতে পারে এবং এলার্জি না থাকে, তবে একটি এসপিরিন ট্যাবলেট চিবিয়ে খেতে দিন। এটি রক্ত জমাট বাঁধা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
  5. নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করুন: আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করুন এবং যদি শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তবে সিপিআর (CPR) শুরু করুন। বিস্তারিত জানুন

CPR (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) এর ধাপসমূহ:

CPR প্রদান করতে নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  1. পজিশনিং: আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমতল জায়গায় শুইয়ে দিন এবং মাথা সামান্য পিছনে হেলান দিয়ে শ্বাসপথ খোলা রাখুন।
  2. চেস্ট কম্প্রেশন: হাতের তালু একটির উপর আরেকটি রেখে বুকের মাঝখানে রাখুন। তারপর সোজা অবস্থানে ৩০টি চেস্ট কম্প্রেশন দিন (প্রতি মিনিটে ১০০-১২০ বার)।
  3. রেস্কিউ ব্রেথ: নাক চেপে ধরে মুখে দুইবার শ্বাস দিন, প্রতিটি শ্বাস ১ সেকেন্ডের মতো হওয়া উচিত। তবে, বর্তমান COVID-19 পরিস্থিতিতে রেস্কিউ ব্রেথ না দেওয়াই ভালো।

হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষার উপায়:

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু করণীয় পদক্ষেপ রয়েছে:

  1. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন, যা ফল, সবজি, পূর্ণ শস্য, এবং কম চর্বিযুক্ত প্রোটিনে সমৃদ্ধ। অতিরিক্ত লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  2. নিয়মিত ব্যায়াম: দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন। হাঁটা, সাঁতার, সাইকেল চালানো ইত্যাদি হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো।
  3. ওজন নিয়ন্ত্রণ: ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং মেদভুঁড়ি কমানোর চেষ্টা করুন।
  4. ধূমপান ত্যাগ: ধূমপান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করুন এবং তামাকজাত পণ্য এড়িয়ে চলুন।
  5. মদ্যপান নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
  6. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: নিয়মিত হার্ট চেকআপ করুন এবং রক্তচাপ, রক্তের কোলেস্টেরল লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ:

মানসিক চাপ হার্টের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মানসিক চাপ কমানোর জন্য:

  1. যোগব্যায়াম এবং মেডিটেশন: নিয়মিত যোগব্যায়াম এবং মেডিটেশন করুন।
  2. পর্যাপ্ত বিশ্রাম: পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান এবং বিশ্রাম নিন।
  3. সামাজিক সম্পর্ক: পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং মনের শান্তির জন্য সামাজিক কার্যকলাপে অংশ নিন।

হার্ট অ্যাটাক পরবর্তী পুনর্বাসন:

হার্ট অ্যাটাকের পর, পুনর্বাসন এবং জীবনধারার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন এবং নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ করান। পরিমিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।

হার্ট অ্যাটাক একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, তবে সচেতনতা এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করা এবং মোকাবেলা করা সম্ভব। আপনার এবং আপনার প্রিয়জনদের হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সচেতন থাকুন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানুন। বিস্তারিত

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক চিকিৎসা নিন এবং করণীয় কি কি

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪

হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং করণীয়

হার্ট অ্যাটাকের পরিচিতি

হার্ট অ্যাটাক, যা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন নামেও পরিচিত, একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা যেখানে হৃদযন্ত্রে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এটি সাধারণত হৃদযন্ত্রের ধমনীতে জমে থাকা প্লাক ফেটে যাওয়ার কারণে ঘটে। ফলস্বরূপ, হৃদযন্ত্রের একটি অংশে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা হৃদযন্ত্রের কোষগুলির ক্ষতি করতে পারে। দ্রুত এবং সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করলে হার্ট অ্যাটাক থেকে জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ:

হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:

  1. বুকে ব্যথা বা চাপ: বুকে মাঝখানে বা বাম দিকে তীব্র ব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে।
  2. শ্বাসকষ্ট: স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে।
  3. ঘাম ঝরা: প্রচণ্ড ঘাম ঝরতে পারে।
  4. মাথা ঘোরা: মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি।
  5. বমি বমি ভাব: বমি বা বমি বমি ভাব হওয়া।
  6. অস্বাভাবিক নাড়ি: নাড়ি দ্রুত বা ধীরে হওয়া।

প্রাথমিক পদক্ষেপ:

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে বা সন্দেহ হলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। নিম্নলিখিত প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো নিন:

  1. শান্ত থাকুন: আক্রান্ত ব্যক্তি ও আশেপাশের সবাইকে শান্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। উদ্বেগ বাড়িয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।
  2. দ্রুত মেডিকেল সাহায্য নিন: দ্রুত ৯৯৯ বা স্থানীয় জরুরি নম্বরে কল করুন এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন। যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে পৌঁছানো প্রয়োজন।
  3. বসে পড়ুন: আক্রান্ত ব্যক্তিকে বসিয়ে দিন এবং বিশ্রাম নিতে বলুন। শুয়ে পড়লে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
  4. এসপিরিন দিন: যদি আক্রান্ত ব্যক্তি এসপিরিন সহ্য করতে পারে এবং এলার্জি না থাকে, তবে একটি এসপিরিন ট্যাবলেট চিবিয়ে খেতে দিন। এটি রক্ত জমাট বাঁধা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
  5. নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করুন: আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করুন এবং যদি শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তবে সিপিআর (CPR) শুরু করুন। বিস্তারিত জানুন

CPR (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) এর ধাপসমূহ:

CPR প্রদান করতে নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  1. পজিশনিং: আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমতল জায়গায় শুইয়ে দিন এবং মাথা সামান্য পিছনে হেলান দিয়ে শ্বাসপথ খোলা রাখুন।
  2. চেস্ট কম্প্রেশন: হাতের তালু একটির উপর আরেকটি রেখে বুকের মাঝখানে রাখুন। তারপর সোজা অবস্থানে ৩০টি চেস্ট কম্প্রেশন দিন (প্রতি মিনিটে ১০০-১২০ বার)।
  3. রেস্কিউ ব্রেথ: নাক চেপে ধরে মুখে দুইবার শ্বাস দিন, প্রতিটি শ্বাস ১ সেকেন্ডের মতো হওয়া উচিত। তবে, বর্তমান COVID-19 পরিস্থিতিতে রেস্কিউ ব্রেথ না দেওয়াই ভালো।

হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষার উপায়:

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু করণীয় পদক্ষেপ রয়েছে:

  1. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন, যা ফল, সবজি, পূর্ণ শস্য, এবং কম চর্বিযুক্ত প্রোটিনে সমৃদ্ধ। অতিরিক্ত লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  2. নিয়মিত ব্যায়াম: দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন। হাঁটা, সাঁতার, সাইকেল চালানো ইত্যাদি হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো।
  3. ওজন নিয়ন্ত্রণ: ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং মেদভুঁড়ি কমানোর চেষ্টা করুন।
  4. ধূমপান ত্যাগ: ধূমপান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করুন এবং তামাকজাত পণ্য এড়িয়ে চলুন।
  5. মদ্যপান নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
  6. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: নিয়মিত হার্ট চেকআপ করুন এবং রক্তচাপ, রক্তের কোলেস্টেরল লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ:

মানসিক চাপ হার্টের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মানসিক চাপ কমানোর জন্য:

  1. যোগব্যায়াম এবং মেডিটেশন: নিয়মিত যোগব্যায়াম এবং মেডিটেশন করুন।
  2. পর্যাপ্ত বিশ্রাম: পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান এবং বিশ্রাম নিন।
  3. সামাজিক সম্পর্ক: পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং মনের শান্তির জন্য সামাজিক কার্যকলাপে অংশ নিন।

হার্ট অ্যাটাক পরবর্তী পুনর্বাসন:

হার্ট অ্যাটাকের পর, পুনর্বাসন এবং জীবনধারার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন এবং নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ করান। পরিমিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।

হার্ট অ্যাটাক একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, তবে সচেতনতা এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করা এবং মোকাবেলা করা সম্ভব। আপনার এবং আপনার প্রিয়জনদের হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সচেতন থাকুন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানুন। বিস্তারিত