ঢাকা ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হিটস্ট্রোকের আড়ালে ডেঙ্গু বাড়ছে।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪ ৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


গ্রীষ্মকালের প্রারম্ভিক দিনেই একটি বিপর্যস্ত তাপপ্রবাহ দেশবাসীদের প্রভাবিত করেছিল। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হিটস্ট্রোকের মৃত্যুর সংবাদ আসছিল। পানিশূন্যতা, লবণশূন্যতা, এবং তাপজনিত বিভিন্ন অসুস্থতা এই তাপপ্রবাহের পরিণামে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে মৌসুমের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ডেঙ্গু এমনকি আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। দেশে ডেঙ্গু রোগীদের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেশি ছিল, কিন্তু এটির সম্পর্কে যতটা সচেতনতা ছিল তা এখনো খুব উচিত ছিল না।

তাপপ্রবাহের শেষে বৃষ্টি ও ঝড়ের পরে ডেঙ্গু এখন বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের সঙ্গে এই রোগের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। আশেপাশের মানুষের সচেতনতাও উন্নতি করা প্রয়োজন। গত বছরে ডেঙ্গু মৌসুম প্রায় শীতকালের শেষের দিকে শুরু হয়েছিল, যেটি এই মৌসুমে সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসে প্রায় শেষ হবে। এই সময়ে মৃত্যু হার এবং রোগীদের সংখ্যা আশেপাশের বছরের তুলনায় বেশি ছিল।


ডেঙ্গু রোগের মামলায় প্রতিবছর মৌসুমের শুরুতে সাধারণ মানুষ বা কর্তৃপক্ষের কোন সচেতনতা নেই। যখন বর্ষায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়, তখন শুরু হয় প্রতিরোধের তোড়জোড়। কিন্তু ডেঙ্গু রোগ মোকাবিলার পরামর্শ দেওয়া হলেও, মৌসুমের শুরুতে, অর্থাৎ বর্ষা আসার আগেই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

ডেঙ্গুর কোনো নিদান বা চিকিৎসার উপায় নেই, এতে উপসর্গ বা জটিলতা নিরসনের কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে, প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই অবশ্যই। কিন্তু এই সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের তৎপরতা প্রকাশিত হয় না, যার ফলে সহজেই এ মারাত্মক রোগ থেকে পরিবারকে দূরে রাখা সম্ভব হয় না।

বাড়ির টব, টায়ার, এসির পানি জমাতে না দেওয়া, পাড়ার জলপাই, নালা, ডোবা পরিষ্কার রাখা, এবং মশা নিরোধক ছিটানো অত্যাবশ্যক। বিভিন্ন স্থানে জমাতে থাকা পানি বা নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরের পরিষ্কারতা বজায় রাখতে নগদ প্রচেষ্টা করা প্রয়োজন।

করণীয়:

শিশুদের দিনে এবং রাতে, যখন তারা ঘুমানো হয়, তখন মশারি ব্যবহার করা উচিত। স্কুল বা কোচিং ক্লাসে যাওয়ার সময়ে তাদের হালকা রঙের পাতলা ফুল স্লিভ প্যান্ট ও জামা পরানো উচিত। ত্বকে মশা নিরোধক মলম ব্যবহার করা সম্ভব; তবে মুখের ভেতরে যেন প্রয়োজনে না পরে।

যখন জ্বর হবে, তাহলে অবশ্যই তিন দিনের মধ্যে ডেঙ্গু এনএসওয়ান টেস্ট করতে হবে। জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে রোগ দেরিতে প্রতিকারের অভিন্ন কারণে। তাই এখন কোনো অবহেলা সম্ভব নয় যখন জ্বর হয়।

জ্বর হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। শিশুদের স্কুলে যাওয়া উচিত না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হিটস্ট্রোকের আড়ালে ডেঙ্গু বাড়ছে।

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪


গ্রীষ্মকালের প্রারম্ভিক দিনেই একটি বিপর্যস্ত তাপপ্রবাহ দেশবাসীদের প্রভাবিত করেছিল। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হিটস্ট্রোকের মৃত্যুর সংবাদ আসছিল। পানিশূন্যতা, লবণশূন্যতা, এবং তাপজনিত বিভিন্ন অসুস্থতা এই তাপপ্রবাহের পরিণামে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে মৌসুমের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ডেঙ্গু এমনকি আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। দেশে ডেঙ্গু রোগীদের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেশি ছিল, কিন্তু এটির সম্পর্কে যতটা সচেতনতা ছিল তা এখনো খুব উচিত ছিল না।

তাপপ্রবাহের শেষে বৃষ্টি ও ঝড়ের পরে ডেঙ্গু এখন বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের সঙ্গে এই রোগের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। আশেপাশের মানুষের সচেতনতাও উন্নতি করা প্রয়োজন। গত বছরে ডেঙ্গু মৌসুম প্রায় শীতকালের শেষের দিকে শুরু হয়েছিল, যেটি এই মৌসুমে সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসে প্রায় শেষ হবে। এই সময়ে মৃত্যু হার এবং রোগীদের সংখ্যা আশেপাশের বছরের তুলনায় বেশি ছিল।


ডেঙ্গু রোগের মামলায় প্রতিবছর মৌসুমের শুরুতে সাধারণ মানুষ বা কর্তৃপক্ষের কোন সচেতনতা নেই। যখন বর্ষায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়, তখন শুরু হয় প্রতিরোধের তোড়জোড়। কিন্তু ডেঙ্গু রোগ মোকাবিলার পরামর্শ দেওয়া হলেও, মৌসুমের শুরুতে, অর্থাৎ বর্ষা আসার আগেই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

ডেঙ্গুর কোনো নিদান বা চিকিৎসার উপায় নেই, এতে উপসর্গ বা জটিলতা নিরসনের কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে, প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই অবশ্যই। কিন্তু এই সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের তৎপরতা প্রকাশিত হয় না, যার ফলে সহজেই এ মারাত্মক রোগ থেকে পরিবারকে দূরে রাখা সম্ভব হয় না।

বাড়ির টব, টায়ার, এসির পানি জমাতে না দেওয়া, পাড়ার জলপাই, নালা, ডোবা পরিষ্কার রাখা, এবং মশা নিরোধক ছিটানো অত্যাবশ্যক। বিভিন্ন স্থানে জমাতে থাকা পানি বা নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরের পরিষ্কারতা বজায় রাখতে নগদ প্রচেষ্টা করা প্রয়োজন।

করণীয়:

শিশুদের দিনে এবং রাতে, যখন তারা ঘুমানো হয়, তখন মশারি ব্যবহার করা উচিত। স্কুল বা কোচিং ক্লাসে যাওয়ার সময়ে তাদের হালকা রঙের পাতলা ফুল স্লিভ প্যান্ট ও জামা পরানো উচিত। ত্বকে মশা নিরোধক মলম ব্যবহার করা সম্ভব; তবে মুখের ভেতরে যেন প্রয়োজনে না পরে।

যখন জ্বর হবে, তাহলে অবশ্যই তিন দিনের মধ্যে ডেঙ্গু এনএসওয়ান টেস্ট করতে হবে। জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে রোগ দেরিতে প্রতিকারের অভিন্ন কারণে। তাই এখন কোনো অবহেলা সম্ভব নয় যখন জ্বর হয়।

জ্বর হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। শিশুদের স্কুলে যাওয়া উচিত না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ